Saturday, June 9, 2018

সালাফীদের গুরু নাছিরউদ্দীন আলবানী শবে বরাতের পক্ষে বলেছে।

সালাফীদের গুরু নাছিরউদ্দীন আলবানী শবে বরাতের পক্ষে বলেছে।





সালাফীদের গুরু নাছিরউদ্দীন আলবানী তার একটা কিতাব “সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব” কিতাবের ৩য় খন্ড ৫৩ ও ৫৪ পৃষ্ঠায় শবে বরাত শরীফ সর্ম্পকে ৫ টা হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছে। উক্ত কিতাবের ২৭৬৭ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শরীফকে “হাসান সহীহ” বলেছে।

২৭৬৮ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। ২৭৬৯ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু অ।নহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। এবং মন্তব্য হিসাবে বলেছে “এই সনদে কোন সমস্য নেই। এরপর ২৭৭০ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত কাছীর ইবনে মুররা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। হযরত মাকহুল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত ২৭৭১ নম্বর হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে।

এবার জনতার আদালতে প্রশ্ন, সালাফী গুরু আলবানী যেখানে শবে বরাতের হাদীস শরীফকে সহীহ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে সেখানে তার তথাকথিত অনুসারী কুয়ার ব্যাং সালাফীরা কেন আজ শবে বরাতের বিরোধীতায় মশগুল?

এখন কথা হচ্ছে সালাফীরা যদি শবে বরাতের বিরোধীতা করে তবে সবার আগে আলবানীরি বিরোধীতা করে আসতে হবে .....তা কি তারা করতে পারবে ?????

(রিয়াদ থেকে প্রকাশিত আলবানীর কিতাবের স্ক্যান কপি দেয়া হলো। হাদীস নম্বর এবং তার মন্তব্য লাল বক্স দ্বারা চিহ্নত করা হলো))
ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত রাকা’আত তারাবীহর নামায পড়েছেন?

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত রাকা’আত তারাবীহর নামায পড়েছেন?

লা’মাযহাবীদের দাবি বুখারী শরীফে তারাবীর নামায ৮ রাকা’আত আছে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই জানতে ইচ্ছা করে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত রাকা’আত তারাবীহর নামায পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সহীহ সনদ সহকারে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনীতে উল্লেখ আছে,





كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ: إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يَجْتَمِعَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ فَيُصَلِّي بِهِمْ، فَيَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ عِشْرِينَ آيَةً، وَكَذَلِكَ إِلَى أَنْ يَخْتِمَ الْقُرْآنَ

অর্থ: “হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি রমাদ্বান মাসে রাতের প্রথম ভাগে উনার সঙ্গীদের জমা করতেন এবং তাদের নিয়ে (তারাবীহর) নামায পড়তেন। সে নামাযে প্রতি রাকা’আতে ২০ আয়াত পাঠ করতেন। আর এভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করতেন।" (দলীল: হাদীউস সারী মুকাদ্দিমায়ে ফতহুল বারী ৫০৫ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান বায়হাক্বী ৩ খন্ড ৫২৪ পৃষ্ঠা: হাদীছ ২০৫৮, ফতহুল বারী ১/৪৮১, তাগলীক্ব আত তালীক আলা সহীহুল বুখারী ৫/৩৯৯, তাহযীবুল কামাল ২৪/৪৪৬, তারীখে বাগদাদ ২/১২, তবাকাতুস শাফিয়াতুল কুবরা ২/২২৪)

এবার এই বর্ণনা অনুযায়ী একটা অংক করা যাক। আমরা দেখতে পেলাম,
১) ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রতি রাকাতে ২০ আয়াত পড়তেন।
২) আর এভাবে তিনি কুরআন শরীফ খতম করতেন।

মাস যদি ৩০ দিনে হয় আর তিনি যদি ৮ রাকা’আত পড়েন তাহলে দাঁড়ায়-
তিনি প্রতিদিন পড়েন, (৮x২০) = ১৬০ আয়াত।
৩০ দিনে পড়েন, (৩০x১৬০) = ৪৮০০ আয়াত শরীফ।

আমরা জানি, কুরআন শরীফে আয়াত শরীফ আছে ৬৬৬৬ টি। তাহলে ৮ রাকা’আত করে তারাবীহ পড়লে ৪৮০০ আয়াত পড়া সম্ভব। বাকি ১৮৬৬ টি আয়াত না পড়েই কি তিনি কুরআন শরীফ খতম দিতেন? আমরা দেখলাম তিনি প্রতি রাকা’আতে ২০ আয়াত করে পাঠ করে কুরআন শরীফ খতম করতেন। অথচ ৮ রাকা’আত নামায পড়ে কষ্মিনকালেও কুরআন শরীফ খতম করা সম্ভব নয়। সূতরাং প্রমাণ হলো স্বয়ং ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও ৮ রাকা’আত তারাবীহ পড়তেন না।
অতএব লা’মাযহাবীদের বুখারী শরীফের নাম বেঁচে খাওয়া এখানই বন্ধ করা উচিত। নইলে মানুষ তাদের মূর্খতার জন্য থুথু দিবে
সালাফীদের মূল নেতা ইবনে তাইমিয়ার ২০ রাকয়াত তারাবীর পক্ষে দলীল

সালাফীদের মূল নেতা ইবনে তাইমিয়ার ২০ রাকয়াত তারাবীর পক্ষে দলীল





ইবনে তায়মিয়া বলেছে,

انو قد ثبت أن أبى بن كعب كان يقوم بالناس عشرين ركعة فى قيام
رمضان ويوتر بثلاث فرأى كثتَ من العلماء أن ذلك ىو السنة لأنو أقامو بتُ
اتظهاجرين والانصار ولد ينكره منكر

অর্থ: একথা প্রমাণিত যে, হযরত উবাই ইবনে কাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু রমাদ্বানে তারাবীতে লোকজনদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়তেন। এবং তিন রাকাত বেতের পড়তেন। তাই বহু আলেমের সিদ্ধান্ত এটাই সুন্নত। কেননা তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন। কেউ তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমূউল ফাতাওয়া, ২৩খ, ১১২-১৩পৃ)

যেটা প্রমাণ হলো,
১) সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা জামাতের সাথে ২০ রাকাত তারাবী পড়েছেন।
২) ৩ রাকাত বিতির নামাজ পড়তেন।
৩) উলামায়ে কিরামগন ২০ রাকাতের বিষয়ে ঐক্যমত্য করেছেন।
৪) ২০ রাকাত পড়াই সুন্নত।
৫) মুহাজির ও আনসার সব সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন ২০ রাকাত পড়েছেন।
৬) কোন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুরু করে কেউ আপত্তি করেন নাই।

তাহলে বর্তমান ওহাবী সালাফীরা আপত্তি করে কেন?
এরা সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বেশি বোঝে? নাউযুবিল্লাহ।